মোটরসাইকেলের অগ্রিম আয়কর বাতিল! বাইকারদের জন্য বড় স্বস্তির খবর
বাইকারদের আন্দোলনের পর বড় সিদ্ধান্ত
মোটরসাইকেলের ওপর অগ্রিম আয়কর বসানোর সিদ্ধান্ত থেকে অবশেষে সরে এসেছে সরকার। আগামী অর্থবছরে সব ধরনের মোটরসাইকেল অগ্রিম আয়কর থেকে মুক্ত থাকবে বলে জানা গেছে।
এর আগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন ক্ষমতার ভিত্তিতে বছরে দুই হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অগ্রিম আয়কর আরোপের পরিকল্পনা করেছিল।
কিন্তু বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বাইকারদের তীব্র প্রতিক্রিয়া ও আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে সরকার।
কী ছিল এনবিআরের প্রস্তাব?
এনবিআরের প্রাথমিক প্রস্তাব অনুযায়ী:
১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলে কোনো কর থাকত না
১১১–১২৫ সিসি বাইকে বছরে ২ হাজার টাকা
১২৬–১৬৫ সিসিতে ৫ হাজার টাকা
১৬৫ সিসির বেশি হলে ১০ হাজার টাকা
অগ্রিম আয়কর আরোপের এই প্রস্তাব দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার ঝড় তোলে।
কেন ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন বাইকাররা?
বাইকারদের দাবি ছিল, বাংলাদেশে মোটরসাইকেল এখন আর বিলাসদ্রব্য নয়।
বরং এটি:
সাধারণ মানুষের যাতায়াতের মাধ্যম
রাইড শেয়ারিংয়ের প্রধান বাহন
ডেলিভারি সার্ভিসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ
কর্মসংস্থানের অন্যতম মাধ্যম
তাদের মতে, এমনিতেই দেশে মোটরসাইকেলের দাম অনেক বেশি। এর ওপর নতুন কর সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিত।
আন্দোলনের পর বদলে যায় পরিস্থিতি
অগ্রিম আয়করের খবরে কয়েকশ বাইকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত রাজস্ব ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও মানববন্ধন করেন।
তারা এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপিও দেন।
শেষ পর্যন্ত আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে।
এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মোটরসাইকেলের ওপর কোনো ধরনের অগ্রিম আয়কর বসানো হচ্ছে না।
বর্তমানে মোটরসাইকেল মালিকদের কী কী কর দিতে হয়?
বর্তমানে মোটরসাইকেল মালিকদের:
এককালীন নিবন্ধন ফি
প্রতি দুই বছর পর রোড ট্যাক্স
দিতে হয়।
তবে আলাদা কোনো অগ্রিম আয়কর দিতে হয় না এবং নতুন বাজেটেও সেটি বহাল থাকছে।
বাজেটে আরও যেসব পরিবর্তনের আভাস
শুধু মোটরসাইকেল কর নয়, আগামী বাজেটে আরও কিছু বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
যেমন:
কর রেয়াত সুবিধা কমানো
ট্রাস্ট ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের কর সুবিধায় নিয়ন্ত্রণ
দীর্ঘমেয়াদি কর কাঠামো প্রস্তাব
করপোরেট করহারে স্থিতিশীলতা
পাঁচ বছরের কর-কাঠামো আসছে?
এনবিআর আগামী বাজেটে পাঁচ বছর মেয়াদি কর-কাঠামোর প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে।
বর্তমানে সাধারণত দুই অর্থবছরের জন্য কর পরিকল্পনা দেওয়া হয়।
কিন্তু এবার:
ব্যবসা
বিনিয়োগ
শিল্পখাত
দীর্ঘমেয়াদে পরিকল্পনা করতে পারে—সেই লক্ষ্যেই নতুন কাঠামো আনা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
করমুক্ত আয়সীমা নিয়েও আসছে পরিবর্তন
সূত্র অনুযায়ী:
২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে করমুক্ত আয়সীমা থাকবে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা
২০২৮-২৯ অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হতে পারে
২০৩০-৩১ সালে এটি সাড়ে ৪ লাখ টাকায় উন্নীত হতে পারে
বাইকারদের জন্য কেন এটি বড় স্বস্তি?
বাংলাদেশে বর্তমানে লাখ লাখ মানুষ মোটরসাইকেলের ওপর নির্ভরশীল।
বিশেষ করে:
ফুড ডেলিভারি
রাইড শেয়ারিং
অনলাইন ব্যবসা
ছোট উদ্যোক্তা
দের জন্য মোটরসাইকেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ফলে নতুন কর বাতিল হওয়ায় সাধারণ বাইকারদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
মোটরসাইকেলের ওপর অগ্রিম আয়কর না বসানোর সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে লাখো বাইকারের জন্য স্বস্তির খবর।
বাইকারদের আন্দোলন এবং জনমতের চাপ সরকারের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
এখন দেখার বিষয়, আগামী বাজেটে আর কী কী নতুন অর্থনৈতিক পরিবর্তন আসে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন